বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ঘোষিত ৭২ ঘণ্টার বাস ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। রোববার (১০ আগস্ট) বিদ্যুৎ ভবনের বিজয় হলে সরকারের সঙ্গে পরিবহন মালিকদের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
বৈঠক শেষে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। এর ফলে মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকা ৭২ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট আর কার্যকর হবে না।
এর আগে, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা আট দফা দাবি জানিয়ে সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। দাবিগুলো পূরণ না হলে ১৩ আগস্ট থেকে টানা তিন দিনের কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছিলেন তারা।
দাবির মধ্যে অন্যতম ছিল সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ৯৮ ও ১০৫ ধারা সংশোধন এবং কিছু অতিরিক্ত ধারা পুনর্বিবেচনা করা। এছাড়া, বাণিজ্যিক মোটরযানের ইকোনমিক লাইফ ২০ ও ২৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩০ বছর করা, সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বিআরটিএ কর্তৃক পুরোনো গাড়ি জব্দ অভিযান স্থগিত রাখা, বাণিজ্যিক যানবাহনের ওপর দ্বিগুণ অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার, রিকন্ডিশন্ড বাণিজ্যিক গাড়ি আমদানির মেয়াদ ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১২ বছর করা, এবং দুর্ঘটনায় জব্দ গাড়ি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মালিকের জিম্মায় ফেরত দেওয়ার বিধান বাস্তবায়ন।
বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে পরিবহন মালিকদের উত্থাপিত দাবিগুলো নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দেওয়া হয়। ফলে মালিক সমিতি আপাতত ধর্মঘট কর্মসূচি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
পরিবহন মালিকদের দাবি পূরণে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো দ্রুত উদ্যোগ নেবে বলে বৈঠকে জানানো হয়। ধর্মঘট প্রত্যাহারের ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গণপরিবহন চলাচল স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।


