জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে রাজনৈতিক মাঠে উত্তাপ বাড়ছে। বরুড়া উপজেলার এই আসনে বিএনপি ও জামায়াত ইতোমধ্যে সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রচারণায়। অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ব্যস্ত রয়েছে সাংগঠনিক কাঠামো মজবুত করতে। জেলা সদর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে একটি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন নিয়ে বরুড়া সংসদীয় আসন। জেলার এ আসনটি একসময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াত বরুড়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে গণসংযোগ ও সভা-সমাবেশ লক্ষ করা যাচ্ছে। নির্বাচনী ইশতেহার ও সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরে সাধারণ মানুষের মধ্যে সমর্থন বাড়াতে কাজ করছে তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও জোর প্রচার চালাচ্ছে স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
বরুড়া উপজেলা বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এই আসনে আমাদের শক্ত ভিত্তি রয়েছে। জনগণের ভরসা এখন বিএনপির ওপর। আমরা তৃণমূলে কাজ করছি, প্রস্তুতি নিচ্ছি যে কোনো পরিস্থিতির জন্য।”
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা গণসংযোগের পাশাপাশি মনোনয়ন পেতে দলের হাইকমান্ডে দৌড়ঝাপ শুরু করে দিয়েছেন। সাবেক এমপি একেএম আবু তাহের ২০০৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ইন্তেকাল করেন। তখন উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন তার ছেলে কেন্দ্রীয় বিএনপির তৎকালীন আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জাকারিয়া তাহের সুমন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি দলের প্রার্থী হলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে সামান্য ভোটে হেরে যান। এরপর একতরফা নির্বাচনে আসন ভাগাভাগিতে ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টি (এরশাদ), ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আসনটি আওয়ামী লীগ দখলে নেয়।
২০১৮ সালে এখানে বিএনপির সাবেক এমপি জাকারিয়া তাহের সুমন দলের প্রার্থী হয়েছিলেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এখানে বিএনপির হেভিওয়েট সম্ভাব্য একক প্রার্থী সাবেক এমপি জাকারিয়া তাহের সুমন। তিনি বর্তমানে কেন্দ্রীয় বিএনপির কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে তিন এলাকায় সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ করছেন। দলের একাধিক নেতা জানান, সাবেক এমপি জাকারিয়া তাহের সুমন আসন এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের কমিটি গঠন করেছেন। প্রতিটি ওয়ার্ড এলাকায়ও একাধিকবার গণসংযোগ ও মতবিনিময় সভা করেছেন। উপজেলা বিএনপির কমিটির আহ্বায়ক কাউছার আলম সেলিম, সদস্য সচিব সৈয়দ জহিরুল হক স্বপন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ রেজাউল হক রেজু, যুগ্ম আহ্বায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন কল্লোলসহ সিনিয়র নেতাদের নেতৃত্বে একাধিক টিম গঠন করে ইউনিয়ন ভাগ করে প্রতিনিয়ত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এছাড়া বরুড়া উপজেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল ও ওলামা দলের নেতারা সম্ভাব্য প্রার্থী জাকারিয়া তাহের সুমনের পক্ষে গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। এছাড়া এখানে কেন্দ্রীয় যুবদলের নির্বাহী কমিটির সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু প্রার্থী হতে পারেন বলে এলাকায় প্রচারণা রয়েছে। অপরদিকে, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের শূরা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. শফিকুল আলম হেলাল জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী। প্রতিনিয়ত বরুড়া উপজেলার প্রতিটি এলাকায় গণসংযোগ ও সভা-সমাবেশ করে যাচ্ছেন তিনি। তিনি গত কয়েক মাস যাবৎ আসন এলাকার বিভিন্ন ইউনিয়ন-ওয়ার্ডে প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা প্রার্থীর পক্ষে এলাকাভিত্তিক ঘরোয়া বৈঠকও শুরু করেছেন। জামায়াত এ আসনটিতে কোনো সময় জয় পায়নি। তাই আগামী নির্বাচনে জয় পেতে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনি মাঠ চষে বেড়াচ্ছে দলটির নেতাকর্মীরা।
অপরদিকে, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের শূরা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. শফিকুল আলম হেলাল জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী। প্রতিনিয়ত বরুড়া উপজেলার প্রতিটি এলাকায় গণসংযোগ ও সভা-সমাবেশ করে যাচ্ছেন তিনি। তিনি গত কয়েক মাস যাবৎ আসন এলাকার বিভিন্ন ইউনিয়ন-ওয়ার্ডে প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা প্রার্থীর পক্ষে এলাকাভিত্তিক ঘরোয়া বৈঠকও শুরু করেছেন। জামায়াত এ আসনটিতে কোনো সময় জয় পায়নি। তাই আগামী নির্বাচনে জয় পেতে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনি মাঠ চষে বেড়াচ্ছে দলটির নেতাকর্মীরা।এনসিপি কুমিল্লা জেলা শাখার একজন সমন্বয়কারী জানান, “আমরা তাড়াহুড়ো করে মাঠে নামছি না। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে প্রথমে ইউনিটগুলো শক্তিশালী করা, এরপর নির্দিষ্ট কৌশলে জনগণের কাছে পৌঁছানো।”
এদিকে, নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটি ঘর গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছে। এ আসনে এনসিপির ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ গণতান্ত্রকি ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবু বাকের মজুমদার প্রার্থী হতে পারেন বলে জানা গেছে।


