ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) টেন্ডারবাজির আখড়া হয়ে ওঠে সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামের সময়কালে। এই সময়ে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু অবৈধ উপায়ে কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে যান।
একসময় নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সাচ্চু, দলের অভ্যন্তরে প্রভাব বাড়িয়ে নেন এবং টেন্ডারবাজির জোরে অর্থবিত্ত গড়ে তোলেন। ক্ষমতার প্রভাবে তিনি মহাখালী বাস টার্মিনালের ইজারা বকেয়া রেখেই কয়েকবার নবায়ন করেন, যা নজিরবিহীন ঘটনা। তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রায় ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বকেয়া রেখে ফের ইজারা পান, যা ডিএনসিসি’র নিয়ম বহির্ভূত।
এই অনিয়ম ও দুর্নীতির টাকায় সাচ্চু নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের অভিজাত ফ্লোরাল পার্ক এলাকায় ৭ লাখ ৬৫ হাজার ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯ কোটি টাকা) স্ত্রীর নামে বাড়ি কিনেছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এই সম্পদ রেজিস্ট্রি হয়।
তবে এখানেই শেষ নয়। জানা গেছে, আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সহায়তায় হুন্ডির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করেন তিনি। ২০২৩ সালে দলীয় সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর তার সম্পদের পরিমাণ বহুগুণে বেড়ে যায়।
সিটি করপোরেশনে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে একক টেন্ডার বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সাচ্চুর বিরুদ্ধে। সরকারের পতনের পর তিনি দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসতি গড়েছেন। দলীয় নেতারাই এখন প্রশ্ন তুলছেন—সাচ্চুর মতো দুর্বৃত্তদের ছত্রছায়া না থাকলে আওয়ামী লীগ এতটা জনবিচ্ছিন্ন হতো না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না।


