Tuesday, May 26, 2026
Home অর্থ-বানিজ্য জ্বালানি ও বিদ্যুতে মালিকানার সীমা উন্মুক্ত চায় যুক্তরাষ্ট্র

জ্বালানি ও বিদ্যুতে মালিকানার সীমা উন্মুক্ত চায় যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের বাধার অবসান চায় যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি চাইছে তেল, গ্যাস, বীমা ও টেলিযোগাযোগ খাতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মালিকানার যে সীমা আছে, তাদের ক্ষেত্রে যেন তা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ঢাকার সঙ্গে শুল্কের দরকষাকষিতে এমন শর্ত জুড়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন। ঢাকা ও ওয়াশিংটন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় ওয়াশিংটনে। এতে দুই দেশের মধ্যে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বাণিজ্যের গতিপ্রকৃতি কেমন হবে, সেসব বিষয়ে যুক্তিতর্ক হয়েছে। বেশ কিছু বিষয়ে দুই দেশ মোটামুটি একমত। তবে কিছু বিষয় এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। শুল্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নায্যতা প্রত্যাশা করে। ফলে আবারও দুই দেশ আলোচনায় বসবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে কিছু শিল্পে বিদেশি মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম; সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বনায়ন এবং যান্ত্রিকভাবে বনসম্পদ আহরণ; পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন এবং টাকা মুদ্রণ– এ চারটি ক্ষেত্র সরকারি বিনিয়োগের জন্য সংরক্ষিত। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধানে বেসরকারি বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে জ্বালানি তেল বিপণন এবং গ্যাস বিতরণে পুরোপুরি বিদেশি মালিকানার অনুমতি দেয় না বাংলাদেশ। এ ছাড়া টেলিযোগাযোগে বিদেশি মালিকানা ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

যুক্তরাষ্ট্রের এ শর্ত নিয়ে জানতে চাইলে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে সমকালকে বলেন, তেল, গ্যাস ও টেলিযোগাযোগ খাত যে কোনো দেশের জন্য সংবেদনশীল। এসব খাতের কিছু অংশ সরকার নিজ নিয়ন্ত্রণে রাখে। যদি মার্কিন কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ চলে যায়, সে ক্ষেত্রে কৌশলগত ঝুঁকি থাকে। আজ হয়তো শুল্ক বাড়িয়ে দাবি আদায়ে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্র। তখন হয়তো সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়ে দাবি আদায় করবে। যে পণ্য ও সেবাগুলো পুরো রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে, এমন পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি এখনও আলোচনার মধ্যে রয়েছে।

দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে কৌশলগত ঝুঁকি নিয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ সমকালকে বলেন, একটি দেশ, অন্য দেশকে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্র এখন জোরজবরদস্তি ও ব্ল্যাকমেইল করছে। একদিকে শুল্ক বাড়িয়ে চাপে ফেলে, অন্যদিকে বাড়তি সুবিধা চাচ্ছে। বাংলাদেশে মার্কিন প্রতিষ্ঠান শেভরন এখনও মাগুরছড়ার ক্ষতিপূরণ দেয়নি। এগুলো নিয়ে সরকারের আরও সোচ্চার হওয়া উচিত। সরকার যদি এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দরকষাকষি করতে চায়, তাহলে বাংলাদেশের পাওনা নিয়ে আলোচনা করা উচিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

দেশের অন্যতম বৃহৎ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর চেয়ারম্যান হিসেবে মো. খুরশীদ আলমকে নিয়োগ দেওয়ার প্রতিবাদে রাজধানীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।...

এক-এগারোর পেছনের মূল কারিগর মইন-মতি-মাহফুজ

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, যা ‘এক-এগারো’ নামে পরিচিত, তা নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করার প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ওই...

বৃষ্টিতে বেড়েছে রাজধানীর পশুর হাটে ভোগান্তি

ঈদুল আজহার আর মাত্র দুদিন বাকি। এরই মধ্যে রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে জমে উঠতে শুরু করেছে কেনাবেচা। তবে উৎসবের আমেজের পাশাপাশি এবার হাটজুড়ে দেখা দিয়েছে...

জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করবেন প্রধানমন্ত্রী

ঈদুল আজহার প্রধান জামাতে শরিক হতে রাজধানী ঢাকার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে নামাজ আদায় করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২৪ মে) বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল...

Recent Comments