গোপালগঞ্জে রাজনৈতিক সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ অটোরিকশাচালক রমজান মুন্সি (৩৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
নিহত রমজান মুন্সি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন।
তার ভাই ইমরান মুন্সি জানান, বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে রমজান অটোরিকশা নিয়ে চৌরঙ্গী কোর্ট এলাকার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ গুলিবিদ্ধ হন। গুলি তার ডান হাতের কব্জির ওপর ও বগলে লাগে এবং শরীরেই থেকে যায়। দ্রুত তাকে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেকে স্থানান্তর করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রমজান মুন্সির মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।
এদিকে, গোপালগঞ্জে সংঘর্ষ-পূর্ববর্তী পরিস্থিতির পর থেকে এখনও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত চলা কারফিউ সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়। তবে দুপুর ২টা থেকে আবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তা পুনর্বহাল করা হয়েছে। কারফিউ বাড়ানো হবে কিনা, তা পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
শহরের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল অব্যাহত রয়েছে। সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।
সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় আরও ২০ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ নিয়ে মোট আটক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫ জনে।
উল্লেখ্য, বুধবার এনসিপির পদযাত্রা কেন্দ্র করে সংঘর্ষে চারজন নিহত হন। নিহতরা হলেন—দীপ্ত সাহা, রমজান কাজী, সোহেল এবং ইমন তালুকদার। রমজান মুন্সির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল পাঁচে।


