Tuesday, May 19, 2026
Home স্বাস্থ্য বার্তা বিশ্বে কানে শোনে না সাড়ে তিন কোটি শিশু

বিশ্বে কানে শোনে না সাড়ে তিন কোটি শিশু

সেপ্টেম্বর মাসের শেষ রবিবার সারা বিশ্ব জুড়ে পালন করা হয় বধির দিবস (ওয়ার্ল্ড ডেফ ডে)। বিশ্বের প্রায় ১৩০টি দেশ এই দিবস পালন করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় পাচ শতাংশ মানুষের শ্রবণ ক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে। সংখ্যার হিসাবে প্রায় ৪৬ কোটি ৬০ লাখ।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আগামী ৩০ বছরে অর্থাৎ ২০৫০ সালে সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়াবে ৯০ কোটিতে। বিশ্বের প্রায় ৩ কোটি ৪০ লক্ষ শিশুর শ্রবণ প্রতিবন্ধকতা আছে। তার মধ্যে ৬০ শতাংশের এই প্রতিবন্ধকতা প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল। স্রেফ সচেতনতার অভাবে এ সব শিশুদের বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন হয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে।

শ্রবণ সংক্রান্ত সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে ‘ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অফ ডেফ’-এর উদ্যোগে ১৯৫১ সালে রোমে প্রথম শ্রবণ প্রতিবন্ধকতা দিবস পালন শুরু হয়। কানে শুনলে তবেই বাচ্চারা কথা বলতে শেখে। কিন্তু জন্ম থেকেই যদি বাচ্চার কানের কোনও শব্দ না পৌঁছায় তাহলে কথা বলতে শেখার কোনো প্রশ্নই নেই।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১০০ জন শিশুর মধ্যে ৪ জন স্বাভাবিক ভাবে শুনতে পায় না। অথচ বাবা মা বা পরিবারের অন্যরা সে বিষয়ে সচেতন নন। ফলে বাচ্চার কথা বলতে শেখে না। বিসিজি বা অন্যান্য টিকার মত ইউরোপ আমেরিকায় সদ্যোজাত শিশুর শ্রবণ ক্ষমতা পরীক্ষার করা বাধ্যতামূলক। আমাদের দেশের কিছু কিছু বেসরকারি হাসপাতালে এই টেস্ট করা হলেও তা সংখ্যায় নগণ্য, বললেন নাক-কান-গলা চিকিৎসক সুচির মৈত্র।

জন্মের সময় শ্রবণ শক্তি স্বাভাবিক থাকলেও ৩/৪ বছর বয়সে মেনিনজাইটিস, টাইফয়েড বা এনকেফেলাইটিস হলেও শ্রবণ ক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। অন্য অনেক অসুখের মতই কানে শোনার অসুবিধা যদি জন্মের সময় নির্ণয় করা যায়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে হিয়ারিং এড দিয়ে বা দরকার হলে কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট করে শিশুকে শব্দের জগতে ফিরিয়ে আনা কঠিন নয়।

যেসব কারণে শিশু জন্ম থেকে বধির হয়

> গর্ভাবস্থায় হবু মায়ের কোনো অসুখ যেমন মাম্পস, রুবেলা, হারপিস, চিকেন পক্স বা টক্সোপ্লাসমোসিসের মত ভাইরাস ঘটিত সংক্রমণ হলে শিশু জন্মগত ভাবে শ্রবণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

> গর্ভাবস্থায় মা যদি এমন কিছু ওষুধ খান, যার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে, তখন বাচ্চা বধির হয়ে জন্মাতে পারে। সন্তান ধারণের সময় ওষুধ খাবার ব্যাপারে সচেতন থাকা উচিত।

> গর্ভাবস্থায় হবু মায়ের চোট লাগলেও শিশুর শ্রবণযন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

> কানের গঠনগত কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি থাকলে বাচ্চা বধির হয়ে জন্মায়। অনেকে আবার ছোট বয়সে নানা শারীরিক কারণে শ্রবণ ক্ষমতা লোপ পায়।

> কান বা শ্রবণযন্ত্রের বিশেষ করে অন্তঃকর্ণের কোনও গঠনগত ত্রুটি থাকলে জন্মের সময় থেকেই বাচ্চা কানে শুনতে পায় না। শোনার জন্য প্রয়োজনীয় নার্ভ অডিটরি নার্ভ। এই স্নায়ুর আশেপাশে কোনও টিউমার থাকলে কানে শোনার সমস্যা হয়।

 

> বংশগত কারণেও বাচ্চা বধির হয়ে জন্মাতে পারে। বংশের ইতিহাসে এই রেকর্ড থাকলে সম্ভাবনা ৬০ শতাংশের বেশি।

> আবার জন্মের সময় কোনো সমস্যা না থাকলেও জন্মের পর নানা কারণে শ্রবণ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রেও অবিলম্বে সঠিক চিকিৎসার সাহায্য না নিলে কথা বলা-সহ ব্যক্তিত্ব বিকাশে অসুবিধা হয়।

> অ্যাকোয়ার্ড অর্থাৎ জন্মের পর নানা কারণে শিশুর শ্রবণ যন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যে সব বাচ্চা নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই ভূমিষ্ঠ হয় ও স্বাভাবিকের থেকে অনেক কম ওজন নিয়ে জন্মেছে, তাদের ক্ষেত্রে এমন সমস্যা হতে পারে।

> আঘাত বা অন্য কোনো কারণে কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হলে এবং সময়মতো চিকিৎসা না হলে বাচ্চার কানে শোনার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।

> কানে ময়লা পরিষ্কার করতে খোঁচাখুঁচি করেন অনেকে। এক্ষেত্রে কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, ফলে শোনার ক্ষমতা ধীরে ধীরে লোপ পায়।

আপনার বাচ্চাকে পরীক্ষা করুন। কীভাবে বুঝবেন বাচ্চার সমস্যা আছে কিনা। জেনে রাখুন কিছু কৌশল-

> খেয়াল রাখুন কোনও শব্দ হলেই বাচ্চা মাথা ঘুরিয়ে তাকায়, বা চমকে ওঠে কিনা। একটু বড় হলে মা বাবার গলা চিনতে পারে। ১৫ মাস বয়সে বাচ্চারা মা, বাবা, দাদা ইত্যাদি বলতে শেখে। না বলতে পারলে বুঝতে হবে সমস্যা আছে। এক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে।

> পরীক্ষা করে যদি জানা যায় শ্রবণ সহায়ক নার্ভ দুর্বল, তবে ছোট বয়স থেকেই ‘হিয়ারিং এড’ দিতে হবে। উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ‘ডিজিটাল হিয়ারিং এড’ কানে শোনার সব ঘাটতি দূর করতে পারে। ছোট থেকে ‘হিয়ারিং এড’ নিলে বাচ্চারা চট করে মানিয়ে নিতে পারে। ভবিষ্যতে কোনো সমস্যাও হয় না।

> যদি কোনো বাচ্চার ককলিয়ার নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে ‘হিয়ারিং এড’ দিয়েও কোনও লাভ হয় না। এদের শ্রবণ ক্ষমতা ফিরিয়ে আনার এক মাত্র উপায় ককলিয়ার প্রতিস্থাপন। এরপর অডিয়োলজিস্ট ও স্পিচ থেরাপিস্ট নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেন।

> পাঁচ বছর বয়সের মধ্যে বাচ্চার শোনার ক্ষমতা ফিরিয়ে না আনলে স্বাভাবিক ভাবে কথা শিখতে ও বলতে অসুবিধা হয়। বাচ্চাদের পাশাপাশি বেশি বয়সেও নানা কারণে শ্রবণ ক্ষমতা লোপ পেতে পারে। চশমার মতোই হিয়ারিং এডকেও জীবনের অঙ্গ করে নিলে সুস্থ জীবন যাপন করা যায় অনায়াসে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সরকারি কর্মীদের জন্য নতুন আইন হচ্ছে

সরকারি কর্মচারীদের জন্য সরকারি চাকরি আইন থাকলেও নতুন করে ‘বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস’ নামে আরেকটি আইন করতে যাচ্ছে সরকার। নতুন আইনটি শুধু বিসিএস কর্মকর্তা, না...

তিন ধরনের নতুন নোট ছাড়লো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক ১০০০, ৫০০ ও ১০ টাকা মূল্যমানের নতুন ব্যাংক নোট বাজারে ছাড়ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার (১৮ মে) থেকে এসব...

বিজয় সরণির কলমিলতা বাজারের আগুন নিয়ন্ত্রণে

রাজধানীর বিজয় সরণি এলাকার কলমিলতা বাজার মার্কেটে ভোরে লাগা অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৫টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হলে...

বিজিএমইএ সদস্যদের জন্য মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে বিশেষ কার্ড চালু

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সদস্য এবং তাদের পরিবারের অন্যদের উন্নত চিকিৎসায় সিঙ্গাপুরের বিশ্ববিখ্যাত মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে বিশেষ প্রিভিলেজ কার্ড চালু করা...

Recent Comments