রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা নদী তীরবর্তী চর কলাগাছিতে এক হাজার শয্যার আধুনিক বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তিতে চীনের এই উপহার প্রকল্প রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যখাতে বড় পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে এই পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন রংপুরের জেলা প্রশাসক রবিউল ফয়সাল, গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা এবং লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে চর কলাগাছিতে থাকা প্রায় ১০০ একর খাস জমির মধ্যে হাসপাতাল নির্মাণের জন্য ২০ একর জমি চিহ্নিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। প্রকল্পের পরবর্তী ধাপে চীনা প্রতিনিধিদল সরেজমিন ঘুরে দেখার পর স্থানটি চূড়ান্ত করা হবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, এলাকাটি পর্যাপ্ত খাস জমি, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা এবং নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য উপযুক্ত। লক্ষ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, “আমরা তিস্তা পাড়ের মানুষ, চিকিৎসা নিতে ঢাকায় যেতে হয়। হাসপাতাল হলে কর্মসংস্থান ও সেবার সুযোগ বাড়বে।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রংপুর জেলা আহ্বায়ক ইমরান আহমেদ জানান, “ভারত চিকিৎসা ভিসা বন্ধ করায় বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসার সুযোগ তৈরির বিকল্প নেই। এই হাসপাতাল সেই ঘাটতি পূরণে কার্যকর হবে।”
গণঅধিকার পরিষদের সদস্য হানিফ খান সজীব বলেন, “রংপুর বিভাগে দেড় কোটির বেশি মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসা সেবার বড় ঘাটতি রয়েছে। চীনের সহায়তায় নির্মিতব্য এই হাসপাতাল স্বাস্থ্যখাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।”
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম জানান, এটি তিস্তা প্রকল্প এলাকার কাছে স্থাপন করা হবে এবং এর মাধ্যমে শুধু রংপুর নয়, বরং পুরো উত্তরবঙ্গ উপকৃত হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এটি হবে দেশের উত্তরাঞ্চলে চীনের অর্থায়নে নির্মিত প্রথম বৃহৎ স্বাস্থ্য অবকাঠামো, যা চিকিৎসা, গবেষণা ও কর্মসংস্থানে এক নতুন যুগের সূচনা করবে।


