বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উদযাপন উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার সংসদ ভবনের আকাশে দেখা গেল এক অনন্য প্রযুক্তিনির্ভর দৃশ্যপট—ড্রোন শো। ‘নতুন বছর, নতুন বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই শো শুধু বিনোদনই নয়, এক নতুন যাত্রার, সংগ্রামের, ও অগ্রগতির বার্তা বহন করে।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হওয়া এই প্রদর্শনীতে আকাশজুড়ে আলো ছড়িয়ে দেয় ২,৬০০ ড্রোন। সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায়, চীনা দূতাবাসের কারিগরি সহায়তায় এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন।
ড্রোন শোতে ফুটে ওঠে ১২টি ভিন্ন ভিন্ন থিম। এর মধ্যে বিশেষভাবে উঠে আসে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা, বিশেষ করে শহীদ আবু সাঈদ ও মীর মুগ্ধের প্রতীকী উপস্থাপনা। আন্দোলনের সাহসিনী নারীদের দৃশ্য ও ঐতিহ্যবাহী বাংলার সংস্কৃতির চিত্রও ফুটে ওঠে অসাধারণ ভঙ্গিতে।
১৪ মিনিটের এই শোতে তুলে ধরা হয় জাতীয় ঐক্য, চীন-বাংলাদেশের বন্ধুত্ব এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে বাংলাদেশের সংহতির বার্তাও। পুরো আয়োজন যেন ছিল একটি চলমান গল্প—আত্মত্যাগ, সংগ্রাম, ও ভবিষ্যতের প্রতি প্রত্যয়।
ড্রোন শো শুরুর আগে বিকেল থেকেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ জমে ওঠে সাংস্কৃতিক কনসার্টে। শুরুতে পরিবেশনা করেন বান্দরবানের বেসিক গিটার লার্নিং স্কুল। এরপর একে একে মঞ্চে গান পরিবেশন করেন এফ মাইনর, মিঠুন, ইসলামউদ্দিন পালকার, রাকিব-সাগর, আরজ আলী, আতিয়া আনিশা, আহমেদ হাসান সানি, পারসা এবং অ্যাশেজ ব্যান্ড।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। নববর্ষের এই আয়োজন ছিল প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, ও চেতনার এক অনন্য সম্মিলন।


