বাংলাদেশে মহাকাশভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা প্রদানের পথে একটি নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে এলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক। বুধবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগ সম্মেলন ২০২৫’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে স্টারলিংকের সেবা চালু করা হয়। সম্মেলনস্থলে উপস্থিত অতিথিরা সরাসরি স্টারলিংকের ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করতে পারেন, যা থেকে সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থাও করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা মহাকাশ থেকে সরাসরি ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিজ্ঞতা গ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন জানান, স্টারলিংক বিডার কাছ থেকে বিনিয়োগ নিবন্ধন পেয়েছে ২৯ মার্চ। এই রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করতে পারছে। তবে দেশে পূর্ণমাত্রায় বাণিজ্যিকভাবে ইন্টারনেট সেবা চালুর জন্য স্টারলিংককে এখনো বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) থেকে অনুমোদন নিতে হবে। এজন্য প্রতিষ্ঠানটিকে এনজিএসও (নন-জিওস্টেশনারি অরবিট) স্যাটেলাইট নীতিমালার অধীনে লাইসেন্স পেতে হবে।
বিশ্বজুড়ে দুর্দান্ত গতির ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার জন্য পরিচিত স্টারলিংক ইতোমধ্যেই ৭০টির বেশি দেশে সেবা চালু করেছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে সহজে সংযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির স্যাটেলাইট-ভিত্তিক প্রযুক্তি বিশেষ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশে এই সেবা চালু হলে দেশের প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকাগুলোতেও উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়া সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্টারলিংকের আগমন দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তবে এটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সঠিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স এবং প্রযুক্তিগত সমন্বয় জরুরি।
এই সেবার ফলে ইন্টারনেট সেবার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং গ্রাহকদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। আগামী দিনে স্টারলিংকের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম বাংলাদেশে শুরু হলে তা তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করে তুলবে বলে আশা করা যায়।


