বাংলাদেশ রেলওয়ের রানিং স্টাফরা তাদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন, ফলে মধ্যরাত থেকেই ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারি) দিনগত রাতে রেলওয়ের উপদেষ্টার সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর শ্রমিকরা এই সিদ্ধান্ত নেন। বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সাইদুর রহমান যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রেলওয়ে উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেছেন যে, শ্রমিকদের দাবি মানা হবে এবং বুধবারের (২৯ জানুয়ারি) মধ্যেই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এ প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে রাত ২টা ৪৭ মিনিটে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যদি প্রতিশ্রুতি পূরণ না হয়, তাহলে তারা পুনরায় আন্দোলনে যাবেন।
রেলওয়ের মহাপরিচালক প্রকৌশলী আফজাল হোসেন জানান, রেলওয়ে উপদেষ্টার বাসায় উভয় পক্ষ বৈঠকে বসে এবং আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। শ্রমিকদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, তাদের মূল দুটি দাবি— মাইলেজ সুবিধা ও পেনশনের সঙ্গে মাইলেজের আর্থিক হিসাব সংযুক্ত করা— বাস্তবায়ন করা হবে। দ্রুত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথাও জানানো হয়েছে।বৈঠকের পরপরই ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার নির্দেশ দেওয়া হয়। রাত ২টা ৫৬ মিনিট থেকে ট্রেন চলাচল শুরু হয় এবং সকাল থেকে এটি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে মহাপরিচালক জানান।
অন্যদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে ধর্মঘট প্রত্যাহারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি লিখেছেন, “রেল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা রেল উপদেষ্টার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করেছি।”
এদিকে, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, কর্মবিরতির কারণে সৃষ্ট সংকট নিরসনে বিএনপির নেতা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ কয়েকজন নেতা রেল উপদেষ্টার বাসায় মধ্যরাতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।দীর্ঘ আলোচনার পর শ্রমিকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করলেও, তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে তারা আবারও আন্দোলনে যেতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ইউনিয়ন নেতারা।


