সাবেক ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ ও তার ভাই শাহারিয়ারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাদের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শাহারিয়ার ১২ কোটি ৯৬ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৪ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন এবং তা ভোগ দখলে রেখেছেন। যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং নিজের ভাই শাহারিয়ারকে অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহায়তা করেছেন। এতে দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা অনুযায়ী তিনি শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আসামিদের সকল আয়কর রিটার্ন ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র জব্দ করা অত্যন্ত জরুরি। তদন্তকারী কর্মকর্তারা মনে করছেন, আয়কর রিটার্নসহ অন্যান্য নথি বিশ্লেষণ করলে সম্পদের প্রকৃত উৎস এবং অবৈধ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যাবে। দুদক সূত্রে জানা যায়, শাহারিয়ার বিভিন্ন সময়ে অপ্রদর্শিত সম্পদ অর্জন করেছেন এবং সেগুলো আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। এই সম্পদ কীভাবে এবং কোন মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে তা নির্ধারণ করতে আয়কর নথি জব্দ করা হবে। অন্যদিকে, হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়কে আর্থিক সুবিধা প্রদান সংক্রান্ত বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দায়িত্বের অপব্যবহার করে তিনি এই প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্তে সব প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করা হবে। জব্দকৃত আয়কর নথি বিশ্লেষণের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের উৎস চিহ্নিত করা এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, এই মামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দুর্নীতি দমনে দুদকের এই পদক্ষেপকে স্বচ্ছতা বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।


