বাজারে সয়াবিন তেলের অস্বাভাবিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্রেতাদের উদ্বেগ বাড়ছে। ভ্যাট কমিয়ে ১৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামানো এবং শুল্ককর একাধিকবার হ্রাস করার পরও সয়াবিন তেলের সংকট কাটেনি। সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার পরও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
রাজধানীর জিনজিরা, নয়াবাজার, এবং কাওরান বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট স্পষ্ট। পাঁচ লিটারের তেলের দু-একটি বোতল পাওয়া গেলেও এক ও দুই লিটারের বোতল পুরোপুরি অনুপস্থিত। বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, ডিলারদের কাছ থেকে তেল সরবরাহ যথেষ্ট না হওয়ায় তারা নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে পারছেন না।
সরকার ৯ ডিসেম্বর লিটারে ৮ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করেছে। এর ফলে পাঁচ লিটারের তেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৮৫২ টাকা, যা কয়েকদিন আগেও ছিল ৮৩৭ টাকা। একইভাবে দুই লিটারের বোতল বিক্রি হচ্ছে ৩৫৫ টাকায়, যা আগে ছিল ৩৪৫-৩৫০ টাকা। খোলা সয়াবিনের দাম লিটারপ্রতি ১৮৮ টাকা, পাম অয়েলের দাম লিটারপ্রতি ১৭৫ টাকা।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেছেন, “বাজারে গুটিকয়েক কোম্পানি ভোজ্যতেল নিয়ে কারসাজি করছে। সরকার সব নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম, কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে নেওয়ার পরও বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। বরং সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।”
বজার সংশ্লিষ্টরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে স্থানীয় বাজারেও সংকট তৈরি করা হচ্ছে। মিল পর্যায়ে তেলের সরবরাহ কমিয়ে ডিলারদের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে।
সরকার ভোজ্যতেলের দাম সহনীয় রাখতে ৩১ মার্চ পর্যন্ত শুল্ক, রেগুলেটরি ডিউটি এবং অগ্রিম আয়কর মওকুফ করেছে। তবে তেলের বাজারে সংকট এবং দাম বৃদ্ধির ফলে ক্রেতাদের দুর্ভোগ কমছে না।
ক্রেতারা বলছেন, বাজারে তদারকি ব্যবস্থা জোরদার না হলে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে না এবং তাদের ভোগান্তি চলতেই থাকবে।


