মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেলপথের অন্তর্ভুক্ত হলেও যাত্রীসেবার মান একেবারেই শোচনীয় অবস্থায় রয়েছে। অব্যবস্থাপনা, যানজট, প্ল্যাটফর্মে দখলদারি, ট্রেন ও টিকিট স্বল্পতা, লোকবল সংকটসহ নানা সমস্যার কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
স্টেশন এলাকায় যানজট যেন নিত্যদিনের চিত্র। যাত্রীদের চলাচলের সুবিধার পরিবর্তে পুরো প্ল্যাটফর্মটি ভাসমান ব্যবসায়ীদের দখলে চলে গেছে। ছোটখাট দোকানপাট, ফল-মূলের দোকান ও নানা পণ্যের অস্থায়ী দোকানে পরিপূর্ণ প্ল্যাটফর্মের বেশিরভাগ অংশ। এতে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে চলাচল তো দূরের কথা, বসার পর্যাপ্ত জায়গাও পাচ্ছেন না। সম্প্রতি প্ল্যাটফর্ম উঁচু করার জন্য ইট বিছিয়ে রেখেছে কর্তৃপক্ষ। তবে কাজ অসম্পূর্ণ রেখে দেওয়ায় পুরো প্ল্যাটফর্ম এখন হাঁটাচলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির সময় ছাদের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দিয়ে পানি পড়ার কারণে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা অনেক থাকলেও স্টেশনের টয়লেট ব্যবস্থাপনা একেবারে নাজুক। নামেমাত্র শৌচাগার থাকলেও তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে যাত্রীরা এটি ব্যবহার করতেই পারেন না। ফলে দীর্ঘ যাত্রার আগে ও পরে তারা চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হন। ঢাকা-সিলেট এবং সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে শ্রীমঙ্গল স্টেশন দিয়ে মাত্র ১২টি ট্রেন যাতায়াত করে। যাত্রীসংখ্যার তুলনায় এই সংখ্যা খুবই কম। ফলে ট্রেনের টিকিট পেতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অগ্রিম টিকিট কাটতে গিয়েও সমস্যায় পড়তে হয়, কারণ বেশিরভাগ ট্রেনের টিকিট আগেই শেষ হয়ে যায়।
স্টেশনটিতে দীর্ঘদিন ধরে লোকবল সংকট বিদ্যমান। ছয়জন স্টেশন মাস্টারের জায়গায় রয়েছেন মাত্র তিনজন। বুকিং সহকারী ছয়জনের স্থলে রয়েছেন চারজন। আয়া পোস্টে তিনজন থাকার কথা থাকলেও একজনও নেই। অপরদিকে, স্টেশনের ভবন ও অবকাঠামোও অত্যন্ত জরাজীর্ণ। স্টেশন চত্বরে পড়ে থাকা গাছ ভেঙে কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখনো তা মেরামত করা হয়নি। ফলে বিপজ্জনক পরিবেশের মধ্যেই অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজারের বেশি যাত্রী যাতায়াত করলেও পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই স্টেশনটির আধুনিকায়নের দাবি দীর্ঘদিনের। শ্রীমঙ্গল স্টেশনকে পর্যটনবান্ধব ও আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন করতে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে কবে নাগাদ এসব সমস্যা সমাধান হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য মেলেনি।


