সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পৃথক চারটি মামলা দায়ের করেছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন ও অবৈধ সম্পদের অভিযোগ রয়েছে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে ২৭ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ৪৪৬ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া তার মেয়ে নাফিসা কামালের নামেও প্রায় ২০০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক তদন্ত চালিয়ে আলাদা চারটি মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেয়।
দুদক মহাপরিচালক আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, মোস্তফা কামাল ও তার পরিবারের সদস্যরা ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে তদন্তে প্রমাণ মিলেছে। তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।এদিকে, শুধু মোস্তফা কামালের পরিবার নয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহানের নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির তদন্তেও নতুন অগ্রগতি এসেছে। ২০২১ সালে মেয়াদের শেষ মুহূর্তে ১৩৮ জনকে অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত ১১ শিক্ষককে তলব করেছে দুদক। তলবকৃতদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রো-ভিসি আনন্দ কুমার সাহা, অধ্যাপক সোবহানের মেয়ে ও মেয়ের জামাইসহ আরও কয়েকজন।
দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই দুর্নীতির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাবেক অর্থমন্ত্রী মোস্তফা কামাল ও তার পরিবারের সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তারা পলাতক থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে দ্রুত গ্রেফতার করা হবে। দুদকের এই পদক্ষেপ দেশের উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভবিষ্যতে দুর্নীতি কমে আসবে। তবে অনেকে মনে করছেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এই মামলার কার্যক্রম কতটা সফল হবে, তা সময়ই বলে দেবে।
এ বিষয়ে মোস্তফা কামাল বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে দুদক নিশ্চিত করেছে, এ মামলার তদন্ত নিরপেক্ষভাবে চলবে এবং যেকোনো রাজনৈতিক চাপ উপেক্ষা করে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।


