বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, দেশে চলমান মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে আরও ১০ থেকে ১২ মাস সময় লাগতে পারে। বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ব্র্যাক ইপিএল আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
গভর্নর জানান, বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থার ঘাটতি মূল্যস্ফীতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার পথে প্রধান বাধা। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আগামী জুনের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে এবং পরবর্তী অর্থবছরে তা ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষায় দুর্বল ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, “দুর্বল ব্যাংকগুলোর যাবতীয় তথ্য যাচাই করে দেখা হবে। এতে কারা ব্যাংক থেকে অর্থ নিয়ে গেছে, তা বেরিয়ে আসবে। এই অর্থ ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, বিশেষত ইউরোপ ও আমেরিকার রাজনৈতিক সহায়তা চাওয়া হবে।”
তিনি আমানতকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সতর্ক পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতকে আরও শক্তিশালী করা হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”
সেমিনারে গভর্নর ভবিষ্যদ্বাণী করেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে আলু ও পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তিনি বলেন, “গত আগস্ট-সেপ্টেম্বরের বন্যার কারণে সময়মতো আলু ও পেঁয়াজ উৎপাদন করা সম্ভব হয়নি। ফলে সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। তবে নতুন ফসল বাজারে আসার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।”
বাংলাদেশের আগামী নির্বাচিত সরকারের জন্য একটি স্থিতিশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন গভর্নর। তিনি বলেন, “বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। এতে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা আরও মজবুত হবে।”
ড. আহসান এইচ মনসুরের এই বক্তব্য দেশের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তগুলোতে দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


