বাংলাদেশ সরকার ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারি লিমিটেডের সঙ্গে ১ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ডিজেলের মূল্য মোট ৯ কোটি ৩২ লাখ ৭৫ হাজার ৩৬৪ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ১৩৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
এ সিদ্ধান্তটি মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে গৃহীত হয়। বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ প্রস্তাবটি উপস্থাপন করে, যার ভিত্তিতে উপদেষ্টা পরিষদ এটি অনুমোদন করেছে। নতুন এই চুক্তির আওতায় ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান নুমালীগড় রিফাইনারি লিমিটেডের সঙ্গে নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে ডিজেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এক ব্যারেল ডিজেলের মূল্য ৫.৫০ ডলার ধরে মোট ব্যয়ের হিসাব করা হয়েছে। এই ডিজেল আমদানি চুক্তি বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
বাংলাদেশ এবং ভারত এর আগে ১৫ বছরের মেয়াদি একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার আওতায় ২০১৬ সাল থেকে ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে। নতুন এই চুক্তি আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশের জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।বাংলাদেশের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ডিজেলের এই নতুন আমদানি সরকারের জ্বালানি খাতে একটি বড় ধরনের অগ্রগতি হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং উৎপাদন খাতে ডিজেলের চাহিদা ক্রমাগত বেড়েছে, এবং এটি সরকারকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানি পণ্যের সঠিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
উল্লেখযোগ্য যে, সরকারের এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বৈশ্বিকভাবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তাই সরকার এই চুক্তি সঠিক সময়ে গ্রহণ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে, দেশের জ্বালানি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।


