দেশে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে, আর এর সঙ্গে বাড়ছে পুড়ে যাওয়া রোগীর মৃত্যুও। এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করতে পাঁচটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নতুন ভবনে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি আগে অনুমোদন পেলেও নানা জটিলতা ও করোনার কারণে বাস্তবায়ন হয়নি। এবার সংশোধিত প্রস্তাব আগামী রোববার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধান উপদেষ্টা ও একনেক চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, ‘সিলেট, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট স্থাপন’ প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪৫৬ কোটি টাকা। তবে নতুন সংশোধনী প্রস্তাবে ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১৬ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে আসবে প্রায় ৪৬৫ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে ৩৫১ কোটি টাকা।
প্রকল্পটির মেয়াদও তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে মোট সময় দাঁড়াচ্ছে সাড়ে ছয় বছর।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নির্বাচিত পাঁচ জেলার পাশাপাশি আশপাশের প্রায় ৬ কোটি মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নত বার্ন চিকিৎসা পাবেন। বর্তমানে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিই একমাত্র বিশেষায়িত কেন্দ্র, যা দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য অপ্রতুল।
প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রতিবছর দেশে প্রায় ৩ লাখ ৬৫ হাজার মানুষ পুড়ে যায় এবং অন্তত ৫ হাজার ৬০০ মানুষ মারা যায়। শুধু সিলেট, বরিশাল, রাজশাহী, রংপুর ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজেই গত কয়েক বছরে হাজার হাজার পোড়া রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এ কারণে প্রতিটি স্থানে আলাদা ভবন নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নতুন ইউনিটগুলো চালু হলে ঢাকার ওপর চাপ কমবে, পাশাপাশি বিদেশে চিকিৎসার প্রবণতাও হ্রাস পাবে। একনেক অনুমোদন দিলে শিগগিরই সংশোধিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শুরু হবে।


