বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে সাইবার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ চুরির ঘটনার ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও পুরো অর্থ উদ্ধারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। চুরির বছরেই মাত্র ৩৫ শতাংশ অর্থ ফেরত পাওয়া যায়। বাকি অর্থ উদ্ধারে এখনো ফিলিপাইন ও যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে হ্যাকাররা যুক্তরাষ্ট্রের Federal Reserve Bank of New York–এ সংরক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংক–এর রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার সরিয়ে নেয়। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কায় পাঠানো ২ কোটি ডলার দ্রুতই ফেরত আসে।
ফিলিপাইনে পাঠানো ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে দেশটির আদালতের নির্দেশে ক্যাসিনো ব্যবসায়ী কিম অং ২০১৬ সালের নভেম্বরে প্রায় দেড় কোটি ডলার ফেরত দেন। সব মিলিয়ে চুরি হওয়া অর্থের প্রায় ৩৫ শতাংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট অর্থ এখনো ফেরত পাওয়া যায়নি।
অর্থ উদ্ধারে ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের United States District Court for the Southern District of New York–এ মামলা করে বাংলাদেশ। মামলায় ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংক, কিম অংসহ ২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করা হয়। তবে ২০২০ সালের মার্চে আদালত জানিয়ে দেন, মামলাটি তাদের এখতিয়ারে পড়ে না।
এরপর ২০২০ সালের ২৭ মে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট কোর্টে নতুন করে মামলা করা হয়। মামলার বিষয়ে বিবাদীপক্ষ নোটিশ পাওয়ার পর আরসিবিসি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলাটি না চালানোর আবেদন জানায়। ফলে আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
এদিকে, ফিলিপাইনের আদালত থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো মামলার চূড়ান্ত রায় হয়নি।
সরকার গঠিত টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিজার্ভ চুরির ঘটনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এখনো জবাবদিহির আওতায় আনা হয়নি। একই সঙ্গে সিআইডির তদন্তপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।
বর্তমানে মামলা চলমান থাকায় এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। তবে অর্থ উদ্ধার নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং মামলায় দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল ব্যয় হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।


