আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে বা আসন্ন রোজার আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে পারে এবং এ জন্য ডিসেম্বরের মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল বুধবার রাত ৮টায় এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আজ (বুধবার) প্রায় দুই ঘণ্টা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে মিটিং হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রধানরা মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।
অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর আট লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন জানিয়ে প্রেস সচিব প্রধান উপদেষ্টার বরাতে বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সব সদস্যকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হবে।
গত ১৩ জুন লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টার বরাতে বলা হয়েছিল, ‘সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা গেলে ২০২৬ সালের রমজান শুরু হওয়ার আগের সপ্তাহেও নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে।’ এর ২৬ দিন পর গতকাল রাত ৮টায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অগ্রগতি জানাতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল আলম আরো জানান, আগামী মাসগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকেও কঠোর হতে বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা। বলেছেন, ত্রয়োদশ নির্বাচন যেন লোক-দেখানো না হয়, সত্যিকারের সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করতে হবে। সবাই যেন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে বলেও জানান তিনি।
প্রেস সচিব আরো জানান, প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘নির্বাচন ফেব্রুয়ারি অথবা এপ্রিলে হবে, এর অর্থ হচ্ছে নির্বাচনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করতে যা কিছুর প্রয়োজন, তা এখন থেকেই শুরু করতে হবে। নির্বাচনের জন্য পর্যাপ্ত লোকবল আছে কি না, খুব দ্রুত এটি জানতে হবে। যদি নিয়োগ করতে হয় তাহলে প্রক্রিয়া এখনই শুরু করে দিন। তাদের জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করুন, প্রতিদিন প্রশিক্ষণ হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, ‘আগে ভোটের দিন ইন্টারনেট বন্ধ করে রাখা হতো। আবার যাতে ইন্টারনেট ব্যবস্থা সচল রাখা যায়, সে জন্য বলা হয়েছে। অতীতে আমরা দেখেছি, মিডিয়ার দলীয় কর্মীদের নির্বাচন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়, এবার প্রকৃত মিডিয়াকর্মী দায়িত্ব পালন করতে পারেন—এর জন্য আগে থেকে কাজ করার কথা বলা হয়েছে। মিডিয়ার জন্য আচরণবিধি যাতে আগে থেকে প্রস্তুত করা যায়, যাতে আগে থেকে জানতে পারে মিডিয়ার দায়িত্ব কতটুকু এবং যাঁরা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন, তাঁরাও জানতে পারবেন মিডিয়ার অ্যাকসেস কতটুকু। এ ছাড়া পর্যবেক্ষকের নামে কেউ যাতে দলীয় কর্মীকে পাঠাতে না পারে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।’


