সরকারি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না হওয়ায় আবারও রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন জুলাই বিপ্লবে আহত আন্দোলনকারীরা। তারা অভিযোগ করছেন, দীর্ঘদিন ধরে আশ্বাস পেলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শনিবার রাত থেকে তারা রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন, যা রোববার দিনভরও চলেছে।
শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পঙ্গু হাসপাতাল ও জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট থেকে বের হয়ে আন্দোলনকারীরা সড়ক অবরোধ করেন। এরপর রোববার সকাল থেকে তারা শ্যামলীর শিশুমেলা মোড়ে অবস্থান নেন, ফলে শ্যামলী, মোহাম্মদপুর ও আগারগাঁও এলাকায় যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে। আহতদের মূল দাবি—দ্রুত পুনর্বাসন, সুচিকিৎসা, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, হতাহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ এবং ক্যাটাগরিভিত্তিক বিভাজন বাতিল। এর আগে গত বছরের ১৪ নভেম্বর ও চলতি বছরের ২ জানুয়ারি একই দাবিতে শাহবাগ ও পঙ্গু হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করেছিলেন তারা।
রোববার বিকালে সরকারের পক্ষ থেকে আহতদের কল্যাণে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি অধিদপ্তর গঠনের আশ্বাস দেওয়া হয়। আশ্বাসের পর আন্দোলনের একাংশ রাস্তা ছেড়ে দেয়, তবে অন্যপক্ষ দাবিতে অনড় থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাওয়ের উদ্দেশে রওনা হয়। রাতে তারা পুলিশি বাধার মুখে পড়লে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের পাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যায়।
আন্দোলনকারীদের একজন, মনিরুল ইসলাম, বলেন, “আমরা জীবন দিয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিদায় করেছি, অথচ আজও ন্যায়বিচার ও সুচিকিৎসার জন্য রাস্তায় নামতে হচ্ছে। নতুন সরকারের উপদেষ্টারা আমাদের দাবি নিয়ে নীরব।” আহতদের অনেকেই চিকিৎসাসেবা না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। যাত্রাবাড়ী এলাকার আহত হাসান বলেন, “৫ আগস্ট আমি গুলিবিদ্ধ হই। সরকার ফ্রি চিকিৎসার কথা বললেও হাসপাতালগুলোতে আমাদের সঙ্গে অবহেলা করা হচ্ছে। চিকিৎসকরা শুধু নিয়মরক্ষার জন্য আসেন, কিন্তু কার্যকর চিকিৎসা দিচ্ছেন না।”
সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য আহতদের সহায়তায় নানা উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেন, “আহতদের চিকিৎসায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ৩০ জনকে বিদেশে পাঠানো হয়েছে এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সহায়তায় সেবা দেওয়া হচ্ছে।”
এদিকে, আহতদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক আজম। তিনি জানান, “এ পর্যন্ত ১৪ হাজার ১২ জন আহতকে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে নিহতদের পরিবারকে এককালীন ১০ লাখ টাকা এবং আহতদের ক্যাটাগরিভিত্তিক সহায়তা দেওয়া হবে।” তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন।


