Sunday, July 26, 2026
Home কর্পোরেট “অপারেশনাল ফ্রেমওয়ার্ক অফ কমোডিটি ডেরিভেটিভস অ্যান্ড ইটস বিজনেস প্রোসপ্যাক্টস” শীর্ষক কর্মশালা

“অপারেশনাল ফ্রেমওয়ার্ক অফ কমোডিটি ডেরিভেটিভস অ্যান্ড ইটস বিজনেস প্রোসপ্যাক্টস” শীর্ষক কর্মশালা

চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (সিএসই) হোটেল রেডিসন ব্লু, চট্টগ্রামে ’অপারেশনাল ফ্রেমওয়ার্ক অফ কমোডিটি ডেরিভেটিভস অ্যান্ড ইটস বিজনেস প্রোসপ্যাক্টস’ শীর্ষক একটি কর্মশালার আয়োজন করে। এতে স্টক ব্রোকার, ডিলার, মার্চেন্ট ব্যাংক, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, বাণিজ্যিক ব্যাংক, লিস্টেড কোম্পানি, কমোডিটি ইকোসিস্টেম সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি এবং বিনিয়োগকারীগণ অংশগ্রহণ করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রী এবং সিএসইর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জনাব আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিএসইর চেয়ারম্যান জনাব একেএম হাবিবুর রহমান, পরিচালক মেজর (অবঃ) এমদাদুল ইসলাম, মিস নাজনীন সুলতানা এফসিএ, জনাব মোহাম্মদ আকতার পারভেজ, সাবেক সিএসই পরিচালক এবং বি রিচ লিঃ-এর চেয়ারম্যান জনাব শামসুল ইসলাম, এফসিএ এবং সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব এম. সাইফুর রহমান মজুমদার, এফসিএ, এফসিএমএ। অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য উপস্থাপনা করেন কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বিষয়ক দুজন বিদেশি এক্সপার্ট চেল্লা সফটওয়ার প্রাইভেট লিমিটেডের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার, জনাব কাথির কামানাথান আন্নামালাই এবং সিনিয়র ভাইস  প্রেসিডেন্ট (বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক অ্যাকাউন্ট) জনাব সুব্বিয়া রাজা গোপাল । এ সময় সিএসইর সকল কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব এম. সাইফুর রহমান মজুমদার, এফসিএ, এফসিএমএ। তিনি ২০২৪ সালে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কাছ থেকে কমোডিটি এক্সচেঞ্জের জন্য নিবন্ধন সনদ লাভ এবং ২০২৫ সালে এ- সংক্রান্ত রেগুলেশনের গেজেট প্রকাশের কথা জানিয়ে বলেন, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার কাজ প্রায় শেষের পথে। এর জন্য অনিবার্য কারিগরি কাঠামো প্রস্তুত রয়েছে। রেগুলেটরি কাঠামোর আরও কাজ চলমান রয়েছে। তবে তৃতীয় ও শেষ ধাপ ইকোসিস্টেম একেবারেই অনুপস্থিত বিধায় আজকের এই ওয়ার্কশপের আয়োজন আমরা করেছি। দুদিন আগে ঢাকায় তা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি জানান, প্রতিবেশি অনেক দেশে ২০ বছর আগে থেকে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু রয়েছে। এমনকি বাংলাদেশের তুলনায় ৫০% জিডিপির দেশেও এই এক্সচেঞ্জ রয়েছে। ইকুইটি ভিত্তিক পুঁজিবাজারের চলমান দুর্বলতা কাটাতে বিনিয়োগ বৈচিত্র্যের দ্বার উন্মোচনের জন্য কমোডিটি এক্সচেঞ্জ অবশ্যই প্রয়োজন। আমরা আশা করি, বাংলাদেশে প্রথম কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার প্রাক্কালে আপনাদের নিয়ে আমাদের আগামীর পথচলা সমৃদ্ধ হবে।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে মেজর (অবঃ) এমদাদুল ইসলাম আমাদের অর্থনীতিতে জনাব আমির খসরুর সাবেক গতিশীল ভূমিকা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, প্রতিবেশি অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ অনেক বেশি শক্তিধর ও সম্ভাবনামণ্ডিত। তিনি কমোডিটি এক্সচেঞ্জের ভবিষ্যৎ ইতিবাচক ভূমিকার কথা বলে দেশে রাজনৈতিক সরকারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মিস নাজনীন সুলতানা, এফসিএ বলেন, সিএসইর প্রায় ১২ বছরের দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলাফল হচ্ছে কমোডিটি মার্কেট স্থাপনের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রাপ্তি। আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে অংশগ্রহণ করলে যেমন ইকুইটি মার্কেট আরও ভাইব্রেন্ট হবে ঠিক তেমনি সবার ঐকান্তিক ইচ্ছা এবং স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা থাকলে এই নতুন এক্সচেঞ্জ পুঁজিবাজারকে সমৃদ্ধ করবে এবং আমাদের দেশের অর্থনীতিতেও ব্যাপক অবদান রাখতে পারবে। জনাব মোহাম্মদ আক্তার পারভেজ ব্রোকার ও কাস্টমারদেরকে আস্থাশীল থেকে কমোডিটি এক্সচেঞ্জের অপার সম্ভাবনার অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান। জনাব শামসুল ইসলাম, এফসিএ বর্তমানে হতাশ ব্রোকারদের জন্য কমোডিটি এক্সচেঞ্জ যাতে আয়ের পথ খুলে দেয় সিএসইকে সে-ব্যাপারে নিশ্চয়তা প্রদানের আহ্বান জানান।

সিএসই চেয়ারম্যান জনাব একেএম হাবিবুর রহমান জানান, সিএসই আগামী ছয় মাসের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। তিনি সিএসই আগামীতে বিজনেস মডেল বিষয়ে ব্রোকারদের সাথে আলোচনায় বসবেন বলে জানান। তিনি বলেন, সিএসইর দেশে প্রথম কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠা গর্বের বিষয়। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন। কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের জন্য সম্পূর্ণ নতুন ধারণা এবং পুঁজিবাজারের জন্য নতুন অ্যাসেট ক্লাস । যদিও বাংলাদেশের পুঁজিবাজার দীর্ঘদিন ধরে ইকুইটি নির্ভর এবং কিছু ব্রোকার, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি এবং ব্যাংক ইত্যাদি মধ্যস্থতাকারী নিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে, কমোডিটি ডেরিভেটিভস চালুর ফলে ইকোসিস্টেমে ওয়্যার হাউজ সার্ভিস প্রোভাইডার, কোয়ালিটি অ্যাসেয়ার-এর মতো নতুন নতুন ইন্টারমিডিয়ারি অন্তর্ভুক্ত হবে। এই অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার সমৃদ্ধ হবে এবং বাংলাদেশের কমোডিটি ইকোসিস্টেমে অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে উন্নত বাজার-ব্যবস্থা গঠন সহজতর হবে। ফলে সুনিয়ন্ত্রিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কমোডিটি ডেরিভেটিভস মার্কেট গঠনের মাধ্যমে প্রাইস ডিসকভারি ও হেজিং সুবিধার পাশাপাশি সৃষ্টি হবে নতুন বিনিয়োগ, যা প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারিদের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। কর্মশালায় এরপর সিএসই-নির্মিত কমোডিটি ডেরিভেটিভস বিষয়ক টিউটোরিয়াল হিসেবে দুটি ভিডিও (অ্যানিমেশন) প্রদর্শিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনাব আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অনেকদিন পর সিএসইর অনুষ্ঠানে এসে আমি নিজের বাড়ি ফিরে আসার আবেগ বোধ করছি। সিএসই নিয়ে আমার যাত্রা শুরুর সাথীদের অনেককেই আজ দেখতে পাচ্ছি। আমাদের পুঁজিবাজার এর গন্তব্যে পৌছতে পারেনি। অনেকেই ব্যাংক থেকে স্বল্প মেয়াদী ঋণ নেয়ার ফলে মিসম্যাচ তৈরি হয়েছে। পুঁজিবাজার দীর্ঘ মেয়াদী বিনিয়োগের ক্ষেত্র হলেও এতে আশানুরূপ সাড়া মেলেনি। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপির চেয়ে সে-দেশের অরথনীতিতে পুঁজিবাজারের অবদান এর দ্বিগুণ। বাংলাদেশের ক্যাপিটাল মার্কেট ওভার রেগুলেটেড বিধায় দুর্নীতি হয়। এখানে দরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। আমাদের মার্কেট ডিস্টর্টেড বলেই প্রোপার অপারেশন হচ্ছে না। তিনি সেই সাথে ক্যাপিসিটি বিল্ডিং নিশ্চিত করতে বলেন। কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশে সফল হবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে নিশ্চয়তা দেন। তিনি বলেন, যার কাছে যত বেশি তথ্য আছে সে-ই তত বেশি ধনী।কমোডিটি এক্সচেঞ্জ আপনাদের দেবে বিভিন্ন কমোডিটির তথ্যের প্রবাহ। তিনি জানান, নীতিগতভাবে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, দেশের পুঁজিবাজারকে ডিরেগুলেটেড করা হবে। ন্যূনতম রেগুলেটরি ভূমিকা রেখে বাকিটা ডিরেগুলেটেড করা হবে যাতে দুর্নীতি লোপ করে পুঁজিবাজারকে সামগ্রিকভাবে আরও গতিশীল করা যায়। কর্মশালায় উপস্থিত অংশীজন ও আলোচকগণ কমোডিটি ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জ প্লাটফর্মের সম্ভাব্য ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেন এবং তারা বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা, পরিচালন কাঠামো ও অর্থনৈতিক প্রভাব তুলে ধরেন। তাঁরা ডেরিভেটিভ মার্কেট গঠনে স্বচ্ছতা, কাঠামোবদ্ধতা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করেন যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। অংশগ্রহণকারীগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ওয়ার্কশপটিতে তাঁদে্র মতামত শেয়ার করেন। এছাড়া বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে এই নতুন অ্যাসেট ক্লাসের সাথে, যার মাধ্যমে অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক সূচিত হতে যাচ্ছে তাঁরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের প্রত্যয় এবং শুভ কামনা ব্যক্ত করেন।

প্যানেল ডিসকাশনে অংশ নেন জনাব কাথির কামানাথান আন্নামালাই, জনাব সুব্বিয়া রাজা গোপাল, জনাব এম. সাইফুর রহমান মজুমদার, এফসিএ, এফসিএমএ; জনাব মেহেদী হাসান, সিএফএ; জেনারেল ম্যানেজার জনাব মোঃ মেজবাহ উদ্দিন, মোঃ মর্তুজা আলম ও মোঃ মনিরুল হক এবং এজিএম জনাব ফয়সাল হুদা। সিএসইর চেয়ারম্যান জনাব একেএম হাবিবুর রহমান উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে কর্মশালার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

তারেক রহমানের সঙ্গে নবনিযুক্ত নৌপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন নবনিযুক্ত বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে দেশের সামুদ্রিক...

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল দ্রুত ঘোষণায় প্রস্তুত ইসি

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে শূন্য হওয়া পদে আগামী ৯০ দিনের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুতই এ নির্বাচনের...

৫৩ বছরে পূর্ণ মেয়াদ শেষ করেছেন মাত্র ৪ জন রাষ্ট্রপতি

স্বাধীনতার পর ৫৩ বছরে ২২ বারে ২০ জন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করলেও মেয়াদ পূর্ণ করতে পেরেছেন মাত্র ৪ জন। তারা হলেন, বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমেদ,...

আল-আরাফাহ্ ব্যাংকের সঙ্গে হজ এজেন্সির বৈঠক

হজযাত্রীদের জন্য সহজ, নিরাপদ ও সময়োপযোগী ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত এবং হজ কার্যক্রমে ব্যাংক ও হজ এজেন্সিগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে ‘হজ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মতবিনিময়...

Recent Comments