বিএনপি চেয়ারপার্সনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার সরকারের আট উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ‘সীমাহীন দুর্নীতির’ অভিযোগ তোলার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, দুর্নীতির বিষয়ে তার কাছে প্রমাণ রয়েছে, এমনকি গোয়েন্দা সংস্থার কাছেও এসব তথ্য আছে। তবে কোনো নাম প্রকাশ না করেই এই বক্তব্য দেন তিনি।
সরকারের পক্ষ থেকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ অভিযোগগুলোকে ‘ভিত্তিহীন’ আখ্যা দিয়ে সাত্তারকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রমাণসহ তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে। একই দিনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্ট করে বলেন, এই বক্তব্য দলের নয় এবং দল উপদেষ্টাদের সততার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখে।
এদিকে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, যেহেতু অভিযোগটি প্রকাশ্যে এসেছে, অভিযোগকারীর উচিত প্রমাণ সরবরাহ করা। সিপিডির ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যও একই মত দিয়ে বলেন, তথ্য না দিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্ব হারাবে।
অভিযোগ ওঠার পর থেকেই আব্দুস সাত্তার গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রেখেছেন। ফলে তিনি সরকারের আহ্বানে সাড়া দেবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নিজ থেকে তদন্ত শুরু করবে কি না, সে বিষয়েও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, অভিযোগ গুরুতর হওয়ায় তা শুধু আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। অভিযোগকারীর নাগরিক দায়িত্ব হলো প্রমাণ তুলে ধরা, আর স্বাধীন সংস্থা হিসেবে দুদকেরও উচিত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত করা। না হলে দুর্নীতি বিরোধী লড়াই দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং জনআস্থার সংকট আরও বাড়বে।
এখন সবার দৃষ্টি—সাত্তার কি প্রমাণ পেশ করবেন, নাকি বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই থেমে যাবে।


