শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় শাহবাগ। ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃত্বে চলমান এই আন্দোলনে শনিবার দিনভর হাজারো মানুষ অংশ নেন। বিচারের দাবির পাশাপাশি তারা ‘ভারতীয় প্রভাবমুক্ত বাংলাদেশ’-এর আহ্বান জানান। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস এলেও আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।
শনিবার সকাল থেকেই শাহবাগ মোড় অবরোধ করে অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে অস্থায়ী মঞ্চ স্থাপন করে দেশাত্মবোধক গান, কবিতা ও স্লোগানের মাধ্যমে আন্দোলন চলে। ‘খুনির বিচার চাই’, ‘আমরা সবাই হাদি’—এমন স্লোগানে মুখরিত থাকে পুরো এলাকা। এতে শাহবাগসহ আশপাশের সড়কে যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে, ভোগান্তিতে পড়েন রোগী ও সাধারণ মানুষ।
দুপুরের দিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শহীদ হাদির কবর জিয়ারত করতে এলে কিছু সময়ের জন্য পরিস্থিতি শান্ত হলেও পরে আবারও আন্দোলন জোরালো হয়। সন্ধ্যার পর আন্দোলনে সংহতি জানাতে শাহবাগে উপস্থিত হন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, শহীদ হাদির হত্যার বিচার নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। বর্তমান সরকারের মেয়াদেই বিচার সম্পন্ন হবে বলে তিনি দৃঢ় আশ্বাস দেন।
উপদেষ্টা জানান, তদন্ত দ্রুত এগোচ্ছে এবং আগামী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের পর চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি রয়েছে। অভিযুক্ত কেউ বিদেশে থাকলে অনুপস্থিতিতেই বিচার হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে আন্দোলনকারীরা কেবল আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন। তারা দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না বলে ঘোষণা দেন।
রাতের দিকে ইনকিলাব মঞ্চ দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে একযোগে সকাল-সন্ধ্যা অবরোধ কর্মসূচির ডাক দেয়। সংগঠনটির নেতারা বলেন, এই আন্দোলন শুধু একটি হত্যার বিচার নয়, বরং ন্যায়বিচার ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রাম।


