দুই দফা টানা বাড়তির পর এবার দেশের স্বর্ণের বাজারে স্বস্তির খবর দিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সংগঠনটি জানিয়েছে, ১৪ এপ্রিল (সোমবার) থেকে নতুন দাম কার্যকর হচ্ছে, যেখানে ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৩৮ টাকা কমানো হয়েছে। তবে রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬২ হাজার ১৭৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮০৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৩২ হাজার ৬৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে তৈরি স্বর্ণের ভরিপ্রতি দাম ১ লাখ ৯ হাজার ৫৩৭ টাকা। এর মাত্র একদিন আগেই, অর্থাৎ ১২ এপ্রিল বাজুস সর্বোচ্চ দামে স্বর্ণ বিক্রির ঘোষণা দেয়। তখন ২২ ক্যারেটের ভরিপ্রতি দাম ছিল ১ লাখ ৬৩ হাজার ২১৪ টাকা—যা দেশের ইতিহাসে ছিল সর্বোচ্চ। তবে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এই দাম কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করলো বাজুস।
সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যে ক্রেতাদের সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত করে চূড়ান্ত দাম নির্ধারণ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে এই মজুরিতে ভিন্নতা থাকতে পারে।অপরদিকে, রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন হয়নি। ২২ ক্যারেটের রুপার দাম ভরিপ্রতি ২ হাজার ৫৭৮ টাকা, ২১ ক্যারেটের ২ হাজার ৪৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ হাজার ১১১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ১ হাজার ৫৮৬ টাকা আগের মতোই বহাল রয়েছে।
চলতি বছরে এটি ছিল স্বর্ণের দামে ২১তম পরিবর্তন, যার মধ্যে ১৫ বার দাম বেড়েছে এবং মাত্র ৬ বার কমেছে। ২০২৪ সালে মোট ৬২ বার দাম সমন্বয় করা হয়, যেখানে ৩৫ বার বেড়েছে এবং ২৭ বার কমেছে। এমন ঘন ঘন দামের পরিবর্তনে স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, স্থিতিশীল নীতিমালার অভাবে সাধারণ মানুষের জন্য স্বর্ণ ক্রয় এখন ক্রমেই চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।


