বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিযোগিতায় এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল (এপিএসি) এখন শুধু অংশগ্রহণকারী নয়, বরং কার্যত গতিপথ নির্ধারণ করছে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, এ অঞ্চলের ৭৮ শতাংশ পেশাজীবী অন্তত সপ্তাহে একবার এআই ব্যবহার করেন, যেখানে বৈশ্বিক গড় ৭২ শতাংশ। প্রযুক্তিনির্ভর ভোক্তা সমাজ, ডিজিটাল দক্ষ তরুণ জনগণ এবং উচ্চমাত্রার ডিভাইস ব্যবহার এআই গ্রহণকে ত্বরান্বিত করছে।
কিন্তু এই অগ্রগতি নতুন ধরনের সাইবার চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ২০২৬ সালের মধ্যেই এআই ব্যবহার করে ডিপফেইক কনটেন্ট আরও ছড়াবে, যা আসল ও ভুয়া তথ্য চেনাকে কঠিন করবে। এআই সাইবার অপরাধীদের হামলা স্বয়ংক্রিয় করতে সাহায্য করবে, ফলে নিয়ন্ত্রক কাঠামোর ওপর চাপ বৃদ্ধি পাবে।
ক্যাসপারস্কির রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট গ্রুপের ম্যানেজার ভ্লাদিস্লাভ তুশকানভ বলেন, “এআই দুই ধরণের ভূমিকা পালন করছে। এটি আক্রমণকারীদের জন্য শক্তিশালী হাতিয়ার, আবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের জন্যও স্মার্ট প্রতিরক্ষার অস্ত্র। যে প্রতিষ্ঠানগুলো এআই সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, সেগুলোই ভবিষ্যতের সাইবার নিরাপত্তায় এগিয়ে থাকবে।”
এপিএসি অঞ্চলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যাড্রিয়ান হিয়া আরও বলেন, “ভোক্তা ও প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত এআই গ্রহণ করছে। ফলে সম্ভাবনা যেমন বাড়ছে, তেমনি সাইবার হুমকির ধরনও পরিবর্তিত হচ্ছে। ক্যাসপারস্কির অভিজ্ঞতা এই পরিবর্তন মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”
ক্যাসপারস্কি সাইবার বুলেটিনে প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—নিয়মিত সিস্টেম আপডেট, পাবলিক রিমোট ডেস্কটপ প্রোটোকল সীমিত করা, হুমকি শনাক্তের জন্য নেক্সট সফটওয়্যার ব্যবহার এবং থ্রেট ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে হামলার কৌশল পর্যবেক্ষণ করা। এছাড়া, সাইবার ঘটনার সময় দ্রুত পুনরুদ্ধারের জন্য ব্যাকআপ সংরক্ষণেও জোর দেওয়া হয়েছে।


