দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্টক এক্সচেঞ্জ—বাংলাদেশের ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), শ্রীলঙ্কার কলম্বো স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জ (পিএসএক্স)—সম্প্রতি পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। কলম্বোতে অনুষ্ঠিত এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিন দেশের স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডিএসইর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই চুক্তির মাধ্যমে তিন দেশের স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর মধ্যে প্রযুক্তিগত ও প্রক্রিয়াগত উন্নয়নে সহযোগিতা, নতুন আর্থিক পণ্য উন্নয়ন, বাজার পর্যবেক্ষণ, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা কাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য যৌথ উদ্যোগ ও ক্রস-এক্সচেঞ্জ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে। ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, কলম্বো স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান দিলশান উইরসেকারা এবং পাকিস্তানের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান আকিফ সাইদ এই সমঝোতা চুক্তির আওতায় ভবিষ্যতে আন্তঃসীমান্ত তালিকাভুক্তি, ব্রোকার অংশীদারত্ব এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংযোগের সম্ভাবনাগুলো পর্যালোচনা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত ছাড়া অন্যান্য দেশের স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর প্রযুক্তিগত ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সম্পদের স্বল্পতার কারণে এসব স্টক এক্সচেঞ্জ কাক্ষিত সক্ষমতা অর্জনে পিছিয়ে রয়েছে। এই সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দক্ষ পুঁজিবাজার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।”
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পাশাপাশি, দক্ষিণ এশিয়ার পুঁজিবাজারের সম্ভাবনা নিয়ে আয়োজিত একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ডিএসইর চেয়ারম্যান। তিনি বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা, ডিমিউচুয়ালাইজেশন পরবর্তী পরিবর্তন এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন।
ডিএসইর প্রতিনিধিদল আরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেয়। তারা পাকিস্তানের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনার, পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, দেশটির সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি সিস্টেম ও সেন্ট্রাল কাউন্টার পার্টির প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
এই চুক্তির মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার পুঁজিবাজারগুলোর মধ্যে প্রযুক্তিগত ও নীতিগত সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো, যা ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার পুঁজিবাজারগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে, যা ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করবে। আপনি যদি কোনো নির্দিষ্ট সংশোধন চান, জানাতে পারেন!


