অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই সময়সীমার মধ্যে ভোট আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে নির্বাচন কতটা সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাবে এবং কিভাবে তা অনুষ্ঠিত হবে, সেটাই মূল বিষয়। তিনি বলেন, “নির্বাচনের তারিখ নিয়ে কোনো ধোঁয়াশা নেই। এটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে, আর সরকার এর বাইরে যাবে না। তাই রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রস্তুতি নিতে হবে।”
বুধবার লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের পূর্ব নারায়ণপুর ইসলামিয়া জুনিয়র দাখিল মাদ্রাসা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহফুজ আলম আরও বলেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিষয়ে সরকার একক কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। তিনি ব্যাখ্যা করেন, “দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া, আমাদের দেশি-বিদেশি সহযোগী ও স্টেকহোল্ডারদের মতামতও গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের একটি অংশ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার দাবি জানালেও, সরকার সবদিক বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।”
এর আগে মাহফুজ আলম তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং দাদা-দাদির কবর জিয়ারত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মাহফুজ আলমের বাবা ও ইছাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুর রহমান বাচ্চু মোল্লা, জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) সংগঠক হামজা মাহবুব, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটির আহ্বায়ক আরমান হোসেন, মুখপাত্র বায়েজীদ হোসেন ও মুখ্য সংগঠক সাইফুল ইসলাম মুরাদ।
উল্লেখ্য, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে নির্বাচন নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। ক্ষমতাসীন সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা কতটা সম্ভব হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।


