দুর্নীতি, প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (১১ জুলাই) থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে হেলথ পলিসি ওয়াচ।
ডব্লি এইচও মহাপরিচালক ড. তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস এক অভ্যন্তরীণ ইমেইলে সংস্থার কর্মীদের জানান, পুতুল ছুটিতে যাচ্ছেন এবং তার অনুপস্থিতিতে সহকারী মহাপরিচালক ড. ক্যাথারিনা বোহম ‘অফিসার ইন চার্জ’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ড. বোহম ১৫ জুলাই নয়াদিল্লির কার্যালয়ে যোগ দেবেন।
বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চলতি বছরের মার্চে পুতুলের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করে। অভিযোগে বলা হয়, তিনি প্রতারণা, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে একাডেমিক যোগ্যতা সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য প্রদান, জাল দলিল ব্যবহার, এবং নিজের নেতৃত্বাধীন সুচনা ফাউন্ডেশনের জন্য বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ২.৮ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা
দুদকের উপপরিচালক আখতারুল ইসলাম জানান, পুতুল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সম্মানী পদ দেখিয়ে নিজেকে অধিক যোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন, যা বিশ্ববিদ্যালয় অস্বীকার করেছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৮, ৪৭১ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, পুতুল বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ডব্লিউএইচও’র আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিলেও, তার নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু থেকেই বিতর্কিত ছিল। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনার প্রভাবেই তিনি ওই পদে মনোনয়ন পেয়েছেন।
মামলার পর থেকে পুতুল বাংলাদেশে ফিরতে সাহস পাননি এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলেও তার কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ে। এমনকি তার উপস্থিতিতে নির্ধারিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনও সম্প্রতি ঢাকায় না হয়ে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়।
এই ঘটনার ফলে ডব্লিউএইচও’র অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।


