আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল আজ সন্ধ্যা ৬টায় ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল একসঙ্গে ঘোষণা করা হবে। গতকাল ইসি সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি আরো জানান, দুই ভোটের একই তফসিল হবে। এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হচ্ছে ৩০০ আসনেই তফসিল দেয়া হবে। এর আগে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা। গতকাল বেলা ১১টার দিকে কমিশনের পাঁচ সদস্য নিজেরা বৈঠকে বসেন। এরপর ১১টা ৪০ মিনিটে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবন থেকে রওনা দিয়ে সোয়া ১২টার পর তারা বঙ্গভবনে পৌঁছান। বেলা ২টায় বঙ্গভবন থেকে বের হয়ে যান সিইসিসহ কমিশনের সদস্যরা। জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা এ সাক্ষাৎ।রেওয়াজ অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার আগে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করে নির্বাচন কমিশন। এরপর সিইসি বিটিভি ও বেতারে ভাষণ দিয়ে ভোটের তফসিল ঘোষণা করেন।
সাক্ষাৎ শেষে সচিব জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘দুটো ভোট একই দিনে হওয়ায়—জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট—ব্যালট পেপারগুলো কীভাবে তৈরি করা হচ্ছে, রঙ কী হবে, কীভাবে ভোটারকে দেয়া হবে, মক ভোটিংয়ে কত সময় লেগেছে, গণনার পদ্ধতি—এসব রাষ্ট্রপতি জানতে চেয়েছেন। আমরা বিস্তারিত জানালে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।’
পোস্টাল ভোটিং নিয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে সচিব বলেন, ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং এবং ইন কান্ট্রি পোস্টাল ভোট সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত জানিয়েছি। এটা শুনে উনি অত্যন্ত খুশি হয়েছেন।’
অন্যদিকে চূড়ান্ত তফসিলের ঘোষণা রেকর্ডের ঠিক আগে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বাগেরহাটের আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন। যার ফলে এ জেলার আগের চারটি আসনেই ভোট হবে। গতকাল প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ এ রায় দেন। এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের গেজেট ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে দেয়া হাইকোর্টের রায় বহাল থাকে।
রায়ের পর নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী বলেন, ‘রায়ের বিষয়টা আমি লিখিতভাবে ইসিকে জানাব। নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী ইনস্ট্রাকশন সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত হবে।’
গত ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন বাগেরহাটের চারটি আসন থেকে একটি কমিয়ে তিনটি করার প্রস্তাব দেয়। গাজীপুরের আসন পাঁচটি থেকে বাড়িয়ে ছয়টি করা হয়। পরে ৪ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত গেজেটে প্রকাশ করা হয়। এ গেজেট চ্যালেঞ্জ করে বাগেরহাট প্রেস ক্লাব, জেলা আইনজীবী সমিতি, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও ট্রাক মালিক সমিতি হাইকোর্টে দুটি রিট করে। ১৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট চারটি আসন বহাল রাখতে রুল জারি করে। ১০ নভেম্বর বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের বেঞ্চ গেজেট ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে রায় দেয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন, গাজীপুর-৬ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী সরকার জাবেদ আহমেদ ও জামায়াতের হাফিজুর রহমান আপিল করেন। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে।
বাগেরহাটের আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে আপিল বিভাগের রায়ের ব্যাপারে সন্ধ্যায় ইসি সচিব বণিক বার্তাকে জানান, ‘আমরা শুনেছি আদালত রায় দিয়েছেন, টিভিতে স্ক্রল দেখেছি। কিন্তু রায়ের কাগজ এখনো হাতে পাইনি।’
এরই মধ্যে তফসিল ঘোষণার ভাষণ রেকর্ড থাকায় আপিল বিভাগের রায়ের কপি ভাষণ সম্প্রচারের আগে এলেও তফসিল আপাতত আর পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘আপিল বিভাগের রায় হাতে এলে বর্তমান গেজেট প্রতিস্থাপন করা হতে পারে। তবে এ রায়ে গাজীপুর ও বাগেরহাটের নয়টি আসনে ইমপ্যাক্ট পড়বে, ৩০০টিতে তো আর পড়বে না। রায় হাতে পেলে বাকিগুলোতে তফসিল অপরিবর্তিত রেখেই নয়টা আসনে সমন্বয় করা হবে।’
রায়ের ভিত্তিতে গেজেট প্রতিস্থাপন আংশিক বা পূর্ণ—দুইভাবেই হতে পারে জানিয়ে সচিব বলেন, ‘আগের গেজেট বাতিল করে নতুন গেজেট দিয়ে তফসিলে প্রতিস্থাপন করা হবে। নয়টা আসনের ক্ষেত্রে হলে তফসিলে আংশিক প্রতিস্থাপন হবে, তা না হলে ৩০০ আসনেই সম্পূর্ণ প্রতিস্থাপন করা হতে পারে।’


