Saturday, March 14, 2026
Home ধর্ম ও জীবন খুরুজের জোড় নিয়ে তাবলিগের মুরুব্বিদের নতুন সিদ্ধান্ত

খুরুজের জোড় নিয়ে তাবলিগের মুরুব্বিদের নতুন সিদ্ধান্ত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে খুরুজের জোড়সহ কোনো ধরনের সমাবেশ বা অনুষ্ঠান আয়োজন না করার অনুরোধ জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-৬ শাখা থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এ বিষয়ে তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ (শুরায়ী নেজাম)-এর মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান খবরের কাগজকে জানান, আমাদের মুরুব্বিগণ সবসময় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। তিনি বলেন, “আগামী ০২, ০৩ ও ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য খুরুজের জোড়ে যারা অংশগ্রহণ করতেন, অর্থাৎ যারা আল্লাহর রাস্তায় চিল্লা ও ০৩ চিল্লার জন্য বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তাদেরকে টঙ্গী ইজতেমা মাঠে জমায়েত না হয়ে তাদেরকে নিজ নিজ জেলা ও এলাকা থেকেই বের হওয়ার জন্য মুরুব্বিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। যারা পাঁচ দিনের জোর থেকে আল্লাহর রাস্তায় বের হয়েছিলেন তাদেরকেও ইজতেমা মাঠে এখন না এসে ওয়াক্ত পুরা করে আসার জন্য মুরুব্বিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। টঙ্গী মাঠে কোনো ধরনের সমাবেশ হচ্ছে না।”

তিনি আরও জানান, খুরুজের জোড় উপলক্ষে টঙ্গী মাঠে যে প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছিল, তা ইতোমধ্যে খুলে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ থেকে একটি টিম ও বিষয়গুলা পর্যবেক্ষণ করেন।

অতীতের কয়েকটি সহিংস ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন—প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাদপন্থীরা একাধিকবার সহিংসতার আশ্রয় নিয়েছে। ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর ইজতেমা মাঠ প্রস্তুতির কাজে নিয়োজিত তাবলীগের সাথিদের ওপর হামলায় প্রায় পাঁচ হাজার সাথি আহত হন। একইভাবে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে পুনরায় হামলায় চারজন সাথি শহীদ হন এবং শতাধিক সাথি আহত হন। উভয় ঘটনার ক্ষেত্রেই সরকারের পক্ষ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি ছিল। এসব প্রজ্ঞাপন উপেক্ষা করে নেক্কারজনক হামলার মাধ্যমে তাবলীগের মেহনতকে দেশ-বিদেশে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে সাদপন্থীরা।

 

তিনি বলেন, এসব জঘন্য ও ন্যাক্কারজনক ঘটনার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষ নৈতিক ও নীতিগতভাবে ইজতেমা মাঠে কোনো ধরনের জোড় বা ইজতেমা আয়োজনের অধিকার হারিয়েছে। ৫৮তম বিশ্ব ইজতেমার আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে, সাদপন্থীরা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ইজতেমা করতে পারবে, তবে পরবর্তী বছরগুলোতে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে কোনো ধরনের ইজতেমা বা তাবলীগি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। যেহেতু তারা গতবছর ইজতেমা সম্পন্ন করে, অর্থাৎ ইজতেমা করার মাধ্যমে তারা শর্তকে মেনে নিয়েছে।

 

হাবিবুল্লাহ রায়হান আরও বলেন— সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে বলে জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

১৫ মার্চ থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি পাবে গণপরিবহন: মন্ত্রী

সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, আগামী ১৫ মার্চ থেকে গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।...

সংসদের পরিবেশে স্লোগান গ্রহণযোগ্য নয়: স্পিকার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ওয়াক আউট নিয়ে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন,...

ঈদের আগে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। ডিম, মুরগি, ভোজ্যতেল, ডাল ও মসলাসহ বেশ কিছু পণ্যের দাম...

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার সারিতে জায়গা পেলেন যারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকারের বাম পাশে বিরোধীদলীয় বেঞ্চে...

Recent Comments