করদাতাদের কাছ থেকে কাক্সিক্ষত সাড়া না পাওয়ায় আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা এক মাস বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ৩০ নভেম্বর রিটার্ন দাখিলের শেষ সময় হিসেবে নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে তা এক মাস বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর করা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে।
জানা গেছে, প্রথমবারের মতো এবার কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সব করদাতাদের অনলাইনে রিটার্ন (ই-রিটার্ন) জমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু অনেকে অনলাইনে কর দেয়ার বিষয়ে অনভিজ্ঞ থাকার কারণে রিটার্ন দাখিল করতে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। এই বছর রাজস্ব বোর্ড প্রায় সব করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে। গত বছর, বেশ কয়েকটি সিটি করপোরেশনের সরকারি কর্মচারীদের জন্য, তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল টেলিকম অপারেটর এবং বৃহৎ বেসরকারি সংস্থার কর্মীদের জন্য অনলাইনে ফাইলিং বাধ্যতামূলক ছিল।
এ দিকে নভেম্বর মাসের শেষ দিকে এসে আইনজীবী, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের পক্ষ থেকে এনবিআরের কাছে রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ানোর আবেদন করা হচ্ছে। এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআরের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়াও পাওয়া গেছে। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, গতকাল পর্যন্ত ১৬ লাখের কিছু বেশি করদাতা ২০২৫-২৬ সালের মূল্যায়ন বছরের জন্য রিটার্ন দাখিল করেছেন, যা দেশের এক কোটি ২৪ লাখ করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ধারকদের মাত্র ১৩ শতাংশ, যা মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়।
এ বিষয়ে এনবিআর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছরের ৩০ নভেম্বর আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার শেষ দিন। এরপর রিটার্ন জমা দিলে একজন করদাতাকে গুনতে হয় জরিমানা। সেই সাথে বিনিয়োগের রেয়াতের সুবিধাও পান না। কম হারে কর দেয়ার সুযোগও থাকে না। করমুক্ত আয়ের সুবিধাও হারাতে হয়। কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত আয়ও করযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।
তিনি জানান, আমাদের রাজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য আয়কর আদায়ের হার বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু ব্যবসার বাণিজ্য শ্লথ গতির কারণে তা বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।
তাই নানাবিধ সমস্যা ও করদাতাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রিটার্ন জমা দেয়ার সময় ৩০ নভেম্বর থেকে বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিগগির এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করবে রাজস্ব বোর্ড। সেটি আগামী সপ্তাহের শেষে জারি করা হতে পারে।
গত বছর ৪৫ লাখ আয়করদাতা রিটার্ন দাখিল করেছিলেন। এ দিকে গত বছর তিন দফা সময় বাড়িয়ে ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের সময় ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছিল। আয়কর আইনের ৩৩৪(ক) ধারা অনুযায়ী, এনবিআর আদেশ জারি করে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় এক মাস পর্যন্ত বাড়াতে পারবে। তবে একই আইনের ৩৩৪(খ) ধারা বলছে, সরকার যদি দেশে মহামারী, অতিমারী, দৈবদুর্বিপাক ও যুদ্ধকালীন সময় বলে ঘোষণা করে তাহলে এনবিআর সরকারের অনুমোদন নিয়ে এই সময় আরো বাড়াতে পারবে।


