পরিপত্র অনুযায়ী, নির্বাচনের আগের দিন অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি সকালে ১ লাখ ৫৭ হাজার পুলিশ সদস্য মাঠে নামবেন। ভোটের দিন এবং তার আগের ও পরের সময়জুড়ে তারা দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) এবং কোস্টগার্ডকে মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদেরও দায়িত্ব দেওয়া হবে। এই বাহিনীগুলো মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে নির্বাচন সংক্রান্ত নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন বাহিনীর মোট প্রায় ৯ লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে আনসার ও ভিডিপির প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ সদস্য সরাসরি ভোটকেন্দ্রে মোতায়েন থাকবেন। পুলিশের প্রায় দেড় লাখ সদস্য, সশস্ত্র বাহিনীর এক লাখ সদস্য এবং বিজিবির প্রায় ৩৫ হাজার সদস্য নির্বাচনী দায়িত্বে অংশ নেবেন।
নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, র্যাব, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং আনসার ব্যাটালিয়নকে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিজিবি, র্যাব, এপিবিএন এবং আনসার ব্যাটালিয়ন জেলা, উপজেলা ও থানা ভিত্তিক দায়িত্ব পালন করবে। উপকূলীয় এলাকায় দায়িত্বে থাকবে কোস্টগার্ড।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, সব বাহিনী সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে রিপোর্ট করবে এবং তার নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৬ থেকে ১৭ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ থেকে ১৮ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে।
মেট্রোপলিটন এলাকায় সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৬ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি দুর্গম হিসেবে চিহ্নিত ২৫ জেলার নির্দিষ্ট ভোটকেন্দ্রে ১৬ থেকে ১৮ জন করে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে। এসব সদস্য ভোটগ্রহণের দুই দিন আগে থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফলে ভোটগ্রহণ ও গণভোট শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।


