অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে নতুন একটি নির্দেশনা জারি করেছেন, যেখানে সরকার নির্ধারিত অফিস সময়ে অনুষ্ঠিত সভায় অংশগ্রহণের জন্য কোনো ধরনের আর্থিক সম্মানি গ্রহণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সচিবদের কাছে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এই চিঠিতে উপদেষ্টার পক্ষ থেকে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, সরকার নির্ধারিত অফিস সময়ে অনুষ্ঠিত কোনো সভায় যোগদানের বিনিময়ে সম্মানি গ্রহণ করা নীতিগতভাবে সঠিক নয় এবং তা এড়িয়ে চলতে হবে।
উল্লেখ্য, চিঠিটি উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে পাঠানো হয় এবং এতে আরও বলা হয়, সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় কোনো কর্মকর্তা যদি বিভিন্ন সভায় অংশগ্রহণ করেন, তবে তা তার নিয়মিত দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। অতএব, এ ধরনের সভার জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা গ্রহণ অনুচিত।
এ বিষয়ে উপদেষ্টার একান্ত সচিব (উপসচিব) সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, “রেগুলার অফিস আওয়ারে যেসব মিটিং হয়, সেগুলোর জন্য কোনো প্রকার সম্মানি গ্রহণ করা যাবে না। তবে যেসব মিটিং প্রকল্প-ভিত্তিক বা বিশেষ ধরনের, এবং যেখানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত সার্কুলারের আওতায় সম্মানি নির্ধারিত আছে, সেসব ক্ষেত্রে এই নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে না।”
সরকারি কর্মপরিধির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নীতিনির্ধারকরা। অনেকেই মনে করছেন, এই নির্দেশনা সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
উপদেষ্টার এই নির্দেশনায় ভবিষ্যতে অন্যান্য মন্ত্রণালয় এবং সংস্থাগুলোকেও একই নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য উদ্যোগ নেয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


